তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১st মার্চ ২০২০

সারা দেশে ৪৯২টি উপজেলায় এলইডি (LED) ডিসপ্লে স্থাপন

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

সরকারি বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, তথ্য ও সেবাসমূহ ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রচারের মাধ্যমে নাগরিক সম্পৃক্ততা ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা।

 

প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত পটভূমি

বাংলাদেশ সরকার দেশের সর্বত্র তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সক্রিয়তা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে ‘ভিশন ২০২১: ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ঘোষণা করেছে। সরকারকে বাংলাদেশের সব শ্রেণির মানুষের দোরগোড়ায় আইসিটি সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/ বিভাগের মাধ্যমে তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এইসব উদ্যোগসমূহ সমন্বয়ের সাথে সাথে গবেষণা, উন্নয়নের সফল ব্যবহার এবং আইসিটির ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণের দ্বারা বৈশ্বিক অভিগমন প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অভীষ্ট অর্জনে সহায়তা করার লক্ষেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ গঠন করা হয়েছে।

 

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর জ্ঞানসমৃদ্ধ অর্থনীতি, সুশাসন এবং জনগনের দোরগোড়ায় ই-সেবার মাধ্যমে টেকসই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নতি কার্যকর করার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর প্রধান কাজ হল উচ্চগতির ই-সংযোগ, ই-সরকার, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষতাসম্পন্ন মানব সম্পদ, উদ্ভাবনীমূলক তথ্য প্রযুক্তির ধারণা সৃষ্টি ও এর বাস্তবায়ন, সমন্বয়, মান নিয়ন্ত্রণ এবং জনগনের মাঝে ডিজিটাল চেতনা প্রচার করা।

 

ডিজিটাল বিপ্লবের পথ ধরে একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল হাতিয়ার। এর প্রতিফলন হিসেবে ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা রূপকল্প-২০২১ এর ঘোষণা দেন যার মূল উপজীব্য ডিজিটাল বাংলাদেশ। গণতন্ত্র, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারকে এগিয়ে নেওয়াই ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য।

 

ডিজিটাল বাংলাদেশের চারটি স্তম্ভঃ

১. কানেক্টিং বাংলাদেশ।

২. দক্ষ মানবসম্পদ

৩. ই-গভর্নমেন্ট

৪. আইটি ইন্ডাস্ট্রি প্রোমোশন

 

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ  বিনির্মাণে সরকার দেশব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।  বর্তমানে সারাদেশে সরকারী সকল পর্যায়ের সেবায় ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের ফলে সেবা পদ্ধতি অনেকাংশে সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত হয়েছে । বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবার আবেদনের ফরম আমরা অনলাইনেই পাচ্ছি। উল্লেখ্যযোগ্য সরকারি সেবাগুলো হলো : জমির পর্চা, জীবন বীমা, পল্লী বিদ্যুতের বিল পরিশোধ, সরকারি ফরম, পাবলিক পরীক্ষার ফল, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অনলাইনে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ভিজিএফ-ভিজিডি তালিকা, নাগরিক সনদ, নাগরিক আবেদন, কৃষি তথ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ ইত্যাদি।

 

আমাদের জীবন আচরন (Lifestyle) দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে আমরা ট্যাক্সি ডাকছি, বাজার করছি। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবার আবেদনের ফরম আমরা অনলাইনেই পাচ্ছি। ট্রেন, সিনেমার টিকিটও অনলাইনে সংগ্রহ করতে অভ্যস্ত হচ্ছি। আমরা অনলাইনে মাধ্যমে সরকারি/বেসরকারি চাকুরির আবেদন করতে পারছি। বর্তমানে সরকারের সকল পর্যায়ের সেবায় ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করায় সেবা পদ্ধতি হয়েছে সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত। আগে যেখানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, চাকুরী নিয়োগ, পাসপোর্ট তৈরী, টেন্ডার, ভূমি অফিস, বিদেশি ভিসা এবং এমনকি ট্রেনের টিকিট নিয়ে যেখানে দুর্নীতি হত এখন উক্ত সেবা ডিজিটাল সেবার আওতায় এসে তা প্রায় একেবারে কমে গেছে কিন্তু নাগরিক ই-সেবাসমূহ প্রচার ও প্রসারের অভাবে সরকারি সেবা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নাগরিকের অন্তর্ভুক্তিকরণ অনেকাংশে সম্ভবপর হচ্ছে না।

 

এটুআই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের 4৫৫৪টি ইউনিয়ন, ৩২৫টি পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের ৪০৭টি ওয়ার্ডে একটি করে ডিজিটাল সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। দেশের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলো থেকে এখন প্রতি মাসে ৪৫ লাখ মানুষ ৬০ ধরনের সেবা গ্রহণ করতে পারছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) উল্লেখযোগ্য সরকারি সেবাগুলো হলো: জমির পর্চা, জীবন বীমা, পল্লী বিদ্যুতের বিল পরিশোধ, সরকারি ফরম, পাবলিক পরীক্ষার ফল, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অনলাইনে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ভিজিএফ-ভিজিডি তালিকা, নাগরিক সনদ, নাগরিক আবেদন, কৃষি তথ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ ইত্যাদি। বেসরকারি সেবাসমূহ হলো : মোবাইল ব্যাংকিং, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ছবি তোলা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ই-মেইল, চাকরির তথ্য, কম্পোজ, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংরেজি শিক্ষা, ভিসা আবেদন ও ট্র্যাকিং, ভিডিওতে কনফারেন্স, প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, ফটোকপি, লেমিনেটিং ইত্যাদি।    

 

২০২০ সালে পূর্ণ হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের শত বছর আর ২০২১ সাল হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ ও ২০২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই উপলক্ষে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচী পালন করা হবে দেশব্যাপী। এমনিতে প্রতিবছর জাতির জনকের জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস এবং ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার দিনটিকে স্মরণ করে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়। তবে মহীরুহসম কোন জাতীয় ব্যক্তির জন্মশতবর্ষ মানে আরও বিশেষ কিছু অবশ্যই, যা ইতিহাসে চিরস্থায়ী দাগ রেখে যেতে সক্ষম হতে পারে।  মুজিব বর্ষের বছরব্যাপী কর্মসূচী ও অনুষ্ঠানমালা জাঁকজমকপূর্ণ, আকর্ষণীয় ও আড়ম্বরপূর্ণ হবে। এর জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ মুজিববর্ষ সারাদেশব্যাপী উদযাপনের জন্য নানা ধরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ সালে উদযাপিতব্য মুজিববর্ষে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমসমূহ জনসাধারণের মাঝে উপস্থাপন ও প্রচার প্রয়োজন।

 

এছাড়া, সরকারি বিভিন্ন নাগরিক ই-সেবা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও জনকল্যাণমুখী করার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের সকল কর্মকাণ্ড, তথ্য ও সেবাসমূহের যথাযথ প্রচার ও প্রসার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

 

প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা

১। মুজিববর্ষ ২০২০-২১ উপলক্ষে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগ সমূহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিকট ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম।

২। সারাদেশে ৪৯২ টি উপজেলায় LED  ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন।

৩। সরকারি বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, তথ্য ও সেবা সংক্রান্ত কনটেন্ট সমন্বয়ে একটি Digital Content Repository System  প্রস্তুত।

৪। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে ডিজিটাল কন্টেন্ট সরবরাহ ও LED ডিসপ্লে বোর্ড এ  প্রদর্শন।

৫। কন্টেন্টসমূহের উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির জন্য একটি  কনটেন্ট ডিস্ট্রিবিউশন ও মনিটরিং সিস্টেম তৈরি।

৬। কন্টেন্ট ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে  ৫৭০ জন কর্মকর্তা/ কর্মচারীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান।

৭। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম এবং সেমিনার/সভার আয়োজন।

 

৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সাথে সম্পৃক্ততা

প্রকল্পটি ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অনুচ্ছেদ ১২.৩.১, ১২.৩.২, ১২.৩.৪, ১২.৩.৫ এবং ১২.৪.৬-এ বর্ণিত আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত জনগণের স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ; সকল পর্যায়ের শিক্ষার মান বৃদ্ধি; “ডিজিটাল ডিভাইড” দূরীকরণের পাশাপাশি “কনটেন্ট ডিভাইড” এবং “জেন্ডার ডিভাইড” দূরীকরণ; ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ই-কমার্স ব্যবহারে উৎসাহ এবং সহযোগিতা প্রদানপূর্বক উৎপাদন, লেনদেন ইত্যাদি খরচ হ্রাসের পাশাপাশি পণ্যের মান বৃদ্ধি, মূল্য হ্রাসের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ও সুশাসনের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ৭ম পঞ্চবার্ষিকী  পরিকল্পনার উপরিল্লিখিত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ অর্জনে সহায়ক হবে।

 

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সম্পৃক্ততা

প্রকল্পটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসমূহের ১, ৪, ৯ ও ১৭ নং লক্ষ্যের সাথে এই প্রকল্পের সম্পৃক্ততা রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অনুচ্ছেদ ১.৪-এ নারী পুরুষ নির্বিশেষে বিশেষ করে দরিদ্র এবং অসহায়দের নিত্যনতুন প্রযুক্তির সুফল ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৪.৫-এ সব ধরণের শিক্ষায় নারী, পুরুষ, শিশু, অক্ষম, সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠি তথা সকলের প্রবেশ নিশ্চিতকরণের জন্য বলা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৯.গ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার উল্লেখযোগ্য পরিমান বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে এবং ২০২০ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে ইন্টারনেট সর্বজনীন ও মুল্যসাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার প্রদানে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হওয়ার কথা বলা হয়েছে।  এছাড়াও ১৭.৭ নং অনুচ্ছেদে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির উন্নয়ন, হস্তান্তর, প্রচার ও বিস্তার ঘটানোর কথা বলা হয়েছে। 


Share with :

Facebook Facebook