তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১st মার্চ ২০২০

শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

  • সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষায়িত কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষায় আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ তৈরিপূর্বক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং সফটওয়্যারভিত্তিক ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন।
  • ডিজিটাল শিক্ষার সম্প্রসারণ ও সহজলভ্যকরণের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের আইসিটি ক্ষেত্রে দক্ষতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা।
  • স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের আইসিটিতে দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
  • মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে আইসিটির প্রয়োগ।
  • বাংলা ভাষাসহ বিভিন্ন বিদেশী ভাষা প্রশিক্ষণ প্রদানপূর্বক বেকার যুবকদেরকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা ও দেশে/বিদেশে শোভন কর্ম প্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি করা।
  • ইতোমধ্যে তৈরিকৃত ভাষা শিক্ষা সফটওয়্যারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
  • অত্যাধুনিক আইসিটি সুযোগ সুবিধা সম্বলিত স্কুল অব ফিউচার নির্মাণ।
  • আইসিটি এবং ইংরেজি বিষয়ে ইন্টার‍্যাকটিভ কনটেন্ট প্রস্তুত করা।
  • সভা/সেমিনার/কর্মশালা আয়োজন, প্রচার ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, আইসিটি বিষয়ে আগ্রহী করে তোলা এবং Netiquette ও cyber security বিষয়ে মানসম্মত পরিবেশ সৃষ্টি করা।
  • তত্ত্বাবধান, পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন এবং গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে প্রকল্পের ফলাফল টেকসইকরণের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন।

প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত পটভূমি

বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ শিক্ষার সকল স্তরে আইসিটি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আইসিটিতে অগ্রসর বা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা তৈরি ও দেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার জন্য প্রাথমিক স্তর হতেই আইসিটি শিক্ষা অর্ন্তভুক্তকরণের বিষয়টি বাস্তবসম্মত ও যুগান্তকারী একটি ধারণা। 


ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও আইসিটি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ার প্রত্যয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ বিভিন্ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করে চলেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অধীন ‘সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন’ প্রকল্পের মাধ্যমে জানুয়ারি, ২০১৫ হতে জুন, ২০১৯ পর্যন্ত দেশের ৬৪ টি জেলায় ৬৫টি ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাবসহ মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা বা তদূর্ধ্ব পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪,০০১টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশি কমিউনিটি বিদ্যালয়সমূহে (বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল) ১৫ (পনের) টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। তাছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় (পাইলট) পর্যায়ে ১৬০টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপিত হয়েছে। এ সকল ডিজিটাল ল্যাব তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং নতুন প্রজন্মকে আইটি পারদর্শী দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ার ক্ষেত্রে সারাদেশে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তৃণমূল পর্যায়ে এসকল ল্যাব স্থাপনের ফলে শিক্ষা এবং আইসিটি ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা এবং তদূর্ধ্ব পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষায় আইসিটি ব্যবহার এবং আইসিটি শিক্ষায় নিজেদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ প্রাপ্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা ছাড়াও এসকল ল্যাবে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মকাণ্ড সফলভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে।


তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার উন্নয়ন, আইসিটির বিস্তার, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যায়ে আইসিটি ক্লাব স্থাপন ইত্যাদির নিমিত্ত পর্যায়ক্রমে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা জরুরী। এছাড়াও, ইতোমধ্যে স্থাপিত ল্যাবসমূহের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, কার্যকারিতা নিশ্চিতকরণ ও আপগ্রেডেশন (Upgradation) প্রয়োজন। ইতোমধ্যে স্থাপিত এবং নতুনভাবে স্থাপিতব্য ল্যাবের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও টেকসইকরণে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানসহ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়/প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরকে নিবিড় আইসিটি প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সচেতন করা প্রয়োজন। 


শিক্ষাক্ষেত্রে সারা বিশ্বের উন্নত দেশসমূহ তাদের সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে নিত্যনতুন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করছে। গতানুগতিক শ্রেণিকক্ষের ধারণা থেকে বের হয়ে এসে এখন প্রবর্তিত হয়েছে স্মার্ট ক্লাসরুমের ধারণা। শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আমাদের দেশেও প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার, ডিজিটাল কনটেন্ট, সফটওয়্যার, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ইত্যাদি সম্বলিত স্মার্ট ক্লাসরুমের প্রবর্তনের মাধ্যমে স্কুল অব ফিউচার স্থাপন করা দরকার।


‘সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন প্রকল্প’ এর আওতায় ৯টি বিদেশী ভাষা প্রশিক্ষণের জন্য ভাষা-গুরু সফটওয়্যার ভার্সন-১ এর সফল উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং আইসিটি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ মোট ১,০২৪ জনকে উক্ত সফটওয়্যারের মাধ্যমে মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণ প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। ভাষা-গুরু সফটওয়্যারের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য এই সফটওয়্যারের উন্নত সংস্করণ (ভার্সন-২) উন্নয়ন ও সারাদেশে স্থাপিত ল্যাবে বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে দেশব্যাপী বিভিন্ন ল্যাবে শিক্ষক এবং ভাষা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে আগ্রহী ব্যক্তিদেরকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন। 


“সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন প্রকল্প” এর আওতায় স্থাপিত ল্যাবগুলোর কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ, তত্ত্বাবধান ইত্যাদির নিমিত্ত মনিটরিং ড্যাশবোর্ডের সফল উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও, প্রতিটি ল্যাবে বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম বাস্তবায়ন পূর্বক রিয়েল টাইম ভিত্তিতে সকল হাজিরা উপাত্ত কেন্দ্রীয়ভাবে ক্লাউডে (Cloud) সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি উক্ত ড্যাশবোর্ডে অন্তর্ভুক্তিকরণের মাধ্যমে এটির উন্নতিকরণ (Upgradation) প্রয়োজন।

 

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমসমূহ

  • ৫,০০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন।
  • স্থাপিতব্য ৫০০০ টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে উপযুক্ত ৩০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্কুল অব ফিউচার হিসেবে রূপান্তর।
  • ৩৬,০২০ জন শিক্ষককে “ICT in Education Literacy, Troubleshooting & Maintenance” প্রশিক্ষণ প্রদান।
  • ১,০০,০০০ জন শিক্ষার্থীকে “Basic Programming, IT Security & MS Office” বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান।
  • শিক্ষক এবং বেকার যুবক সহ মোট ২০,০০০ জনকে ভাষা-গুরু সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাংলাসহ ৯টি বিদেশী ভাষায় প্রশিক্ষণ প্রদান।
  • ইতোমধ্যে তৈরিকৃত ভাষাগুরু সফটওয়্যারের ভার্সন-২ উন্নয়ন।
  • আইসিটি এবং কমিউনিকেটিভ ইংলিশ বিষয়ে ১৪০ টি ইন্টার‍্যাকটিভ ডিজিটাল কনটেন্ট প্রস্তুত।
  • সেমিনার আয়োজন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রচার, অভিজ্ঞতা বিনিময়।
  • তত্ত্বাবধান, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন সম্পন্ন। প্রকল্পের ফলাফল টেকসইকরণের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রস্তুত।

 

৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সাথে সম্পৃক্ততা

৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অনুচ্ছেদ ১২.৩.২, ১২.৩.৩ এবং ১২.৪.৬-এ বর্ণিত আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে সকল পর্যায়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন; “ডিজিটাল ডিভাইড” দূরীকরণের পাশাপাশি “কনটেন্ট ডিভাইড” এবং “জেন্ডার ডিভাইড” দূরীকরণ এবং একটি স্থিতিস্থাপক ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার উপরিল্লিখিত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ অর্জনে সহায়ক হবে।

 

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সম্পৃক্ততা

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসমূহের ১, ৪ এবং ১০ নং লক্ষ্যের সাথে এই প্রকল্পের সম্পৃক্ততা রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অনুচ্ছেদ ১.৪-এ নারী পুরুষ নির্বিশেষে বিশেষ করে দরিদ্র এবং অসহায়দের নিত্যনতুন প্রযুক্তির সুফল ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৪.৫-এ সব ধরণের শিক্ষায় নারী, পুরুষ, শিশু, অক্ষম, সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠী তথা সকলের প্রবেশ নিশ্চিতকরণের জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া ১০ নং লক্ষ্যে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল ধরণের অসমতা দূরীকরণের জন্য বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের কার্যক্রমসমূহ উপরিল্লিখিত লক্ষ্যসমূহ অর্জনে সহায়ক হবে।


Share with :

Facebook Facebook